এম.এ আজিজ রাসেল:
কক্সবাজারে এবার জমকালো আয়োজনে উদযাপন করা হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল শুরু হয়েছে। পুরো আয়োজনকে সামনে রেখে পর্যটন নগরী সেজেছে বর্ণিল সাজে। ভ্রমণার্থীদের জন্য মূল্যছাড়সহ বিনোদনমূলক নানা অনুষ্ঠান।

বিশ^ পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে শেষ হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ জেলা—উপজেলা পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা। বাদক দল, ঘোড়া ও ট্যুরিস্ট পুলিশের বাইক বহর শোভাযাত্রা রঙিন করে তোলে।

পরে সপ্তাহব্যাপী মেলা ও বিচ কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার—৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার—২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, কক্সবাজার—১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ প্রফেসর সোমেশ্বর চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা জাসদের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি, রেজাউল করিম, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম, হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার, টুয়াক সভাপতি আনোয়ার কামাল, রেজাউল করিম ও হোটেল মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজার ঘিরে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। এই উন্নয়নকে আরও তরান্বিত করতে কক্সবাজারকে ব্রান্ডিং করতে হবে। কার্নিভালকে স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে কক্সবাজারের সব হোটেল—মোটেল ও রেস্তোরাঁয় থাকছে ৩০—৭০ শতাংশ মূল্যছাড়। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এ সুবিধা নিতে পারবেন।

‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সাত দিনের পর্যটন মেলার আয়োজনে করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ২০০টি স্টল নিয়ে বসছে মেলা। থাকছে পর্যটন বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন, ঘুড়ি উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানগেম, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক উৎসব, ফানুস উৎসব, বালি ভাস্কর্য, বিচ ভলিবল, ক্রিকেট, ম্যাজিক শো, আতশবাজি, ডিজে শো ও কনসার্ট।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শিল্পী মেরি, পপশিল্পী মেহরিন, আঁখি আলমগীর, ব্যান্ড কুঁড়ে ঘর ও কৌতুক অভিনেতা আরমান পারফর্ম করবেন। বিদেশী পর্যটকদের অংশগ্রহণে থাকছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। তারা জাজ, হেভি মেটাল ও অপেরা পরিবেশন করবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত এ সব আয়োজন চলবে।

এ দিকে মেলাকে কেন্দ্র করে জমকালো আয়োজনে সেজেছে সৈকত ও হোটেল রেস্তোরাঁ। লাবণী পয়েন্টের হোটেল কল্লোল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে ট্যুরস্ট পুলিশের গেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বসেছে স্টল। এ সব স্টলে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট সামগ্রী, আচার, শুঁটকি ও পিঠাসহ হরেক রকমের পণ্য থাকছে।