এম.এ আজিজ রাসেল:
কক্সবাজারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা—কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দফা দাবি আদায়ে এই কর্মবিরতি পালন করছে তাঁরা। এতে সেবা প্রার্থীদের দুভোর্গ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে গিয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে আসছে সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে দুযোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন সংযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সদস্যরা কর্মবিরতি পালনে জড়ো হন। এসময় ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রদান করা হয়।

তাদের পাঁচ দফা দাবী হলো— দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর আলোকে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো ও নিয়োগবিধি বাস্তবায়ন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্তাকর্তা (ডিআরআরও) পদ আপগ্রেডেশন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পদ আপগ্রেডেশন, সচিবালয়ের ন্যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তন ও সকল শূন্য পদ পদোন্নতি/চলতি দায়িত্ব/নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জনসাধারণকে সহায়তা প্রদান এবং গ্রামীণ জনপদকে পুন:নির্মাণের লক্ষ্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় গঠন করেন যা বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নামে রূপান্তরিত হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জেলা পর্যায়ে একমাত্র কর্মকর্তার পদটি হলো জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) এবং উপজেলা পর্যায়ের একমাত্র কর্মকর্তার পদটি হলো উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। আপনার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এই একমাত্র কর্মকর্তা এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তা—কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি চ্চ্যাম্পিয়ন্স অফ দ্যা আর্থ” পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েছেন। সকল মন্ত্রণালয়/ বিভাগের পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গঠনের বিষয়ে আপনার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে তেমন কোন কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা হয়নি। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রায় সকল বিভাগীয় প্রধানের পদকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। অথচ ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদটি ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সৃজিত হলেও অদ্যাবধি ২য় শ্রেণী হিসেবেই রয়ে গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য—সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কোভিড—১৯ পরিস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ে অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য প্রশাসনের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাছাড়া উপজেলা পর্যায়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কাজ যেমন—মুজিব কিল্লা নির্মাণ প্রকল্প, ব্রীজ—কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এইচবিবি করণ প্রকল্প, কাবিখা/কাবিটা, টিআর, ইজিপিপিসহ উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মাণাধীন বীর নিবাস এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজটিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়—নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাগণ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং অধিদপ্তরাধীন সকল কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তন ও আপগ্রেডেশন এখন সময়ের দাবি।