আব্দুস সালাম,টেকনাফ:
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের মোহাম্মদ ইসমাঈলের মালিকাধীন ফিশিং ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ৩৩ কেজি ওজনের একটি পোপা মাছ। এ পোপা মাছের দাম হাঁকানো হচ্ছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে তিন লাখ টাকা।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফিশিং ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে।পরে দুপুর ১টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাটে ভিড়ানো হয় ট্রলারটি।
ফিশিং ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ ইসমাঈল জানান, গত সোমবার মাছ ধরার জন্য শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাট থেকে ১০জন মাঝি নিয়ে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সেন্টমাটিনে পশ্চিমে সাগরে জাল ফেলেন।
এরমধ্যে ভোরে জেলেরা জাল ওঠাতে গিয়ে দেখেন, জালে কয়েকটি লাল কোরালসহ বড় একটি পোপা মাছ আটকা পড়েছে।মাছটি ট্রলারে তোলার পর মাঝি আমিন উল্লাহ মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি তাঁকে জানালে সে ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপে নিয়ে আসতে বলেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভায়াষ স্থানীয় লোকজন মাছটি ‘কালা পোপা’ নামে পরিচিত।এ মাছের মূল আকর্ষণ হলো পেটের ভেতর থাকা পটকা বা বায়ুথলি(এয়ার ব্লাডার)এই বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়।এ জন্যই পোপা মাছের এমন চড়া দাম।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আমির আহমদ জানান, চলতি বছর এখানকার ফিশিং ট্রলারে আরও দুটি কালা পোপা মাছ ধরা পড়েছিল।এই মাছের পটকা থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হয়।তাই এ মাছের এত দাম চাওয়া হয়।এ ছাড়া মাছটি কেটে বিক্রি করলে প্রতি কেজি ৫৫০-৬৫০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।

তবে ট্রলার মালিক মোহাম্মদ ইসমাঈল জানান, স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী মাছটি ৩ লাখ টাকা দিয়ে কিনতে চেয়েছেন।তবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তিনি মাছটি কক্সবাজারে পাঠিয়েছেন।বিদেশে মাছের পটকা রপ্তানি করেন এমন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, সাধারণত এত বড় পোপা মাছ ধরা পড়ে না।এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Myeteroperca bohaci)।পোপা মাছের বায়ুথলি বেশ মূল্যবান।এই মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা রয়েছে।