ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল অবদান রেখে কৃতিত্বে স্বরূপ কক্সবাজারের ৮জন তরুণ-তরুণীকে ‘অদম্য তারুণ্য’ সম্মাননা প্রদান করেছে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি।

তারা হলেন, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ ডিবেটিং চ্যাম্পিয়নশিপের জয়ী বিতার্কিক সৌরদীপ পাল, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় শাহেদা আক্তার রিপা, নবাগত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিন ফারুক আমিন, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাভিদ বিন হাসান, জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু, মানবাধিকারকর্মী রীমা সুলতানা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তানজিলুর রহমান, বঙ্গবন্ধু জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতা ২০২১-এর বিজয়ী আবদুল মুক্তাদির।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সমিতির সভাপতি সাবেক সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা, সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান, বিশিষ্ট নাট্যকার কাওছার চৌধুরী, কক্সবাজার ক্রীড়া সমিতির সভাপতি ইকবাল মোহাম্মদ শামসুল হুদা টাইটেল, বাংলাদেশ বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোমিনুর রশিদ আমিন, ইয়াছিন মোহাম্মদ শামসুল হুদা, জাহাংগির হাসান, জয়নাল আবেদিন মুকুল, ডক্টর মোস্তফা কামাল, স্বপন কান্তি পাল, সুজন শর্মা, আনিস উল মাওয়া আরজু প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে হেলালুদ্দিন আহমেদ জানান, কক্সবাজার সমিতি তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করতে এরকম উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে অভিমত দেন। সম্মাননা অনুষ্ঠানে ‘অদম্য তারুণ্য’ শীর্ষক ডিজিটাল পরিবেশনা প্রদর্শন করা হয়।

এডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তাকিমের কোরআন হতে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম।

অনুষ্ঠান সমন্বয়ে দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক আখলাকুর রহমান গালিব, সহ-দফতর সম্পাদক ফাহিম বিন নজিব সহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ সহযোগিতা করেন।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “আত্ন-উন্নয়ন ও আত্ন-শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সৃষ্টিশীলতাকে বিকশিত করতে হবে”। বক্তারা গতানুগতিকতার বাইরে তারুণ্যের অদম্য প্রত্যয়কে অভিবাদন জানান। তারা বলেন, “একসময়ের পিছিয়ে পড়া জনপদ কক্সবাজার এখন বাংলাদেশে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। মানব সম্পদ উন্নয়নে কক্সবাজার এখন বাংলাদেশের অভিচ্ছেদ্য অংশ।“
অনুষ্ঠানে কক্সবাজারে শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানানো হয়। কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও উত্থাপন করা হয়।
তরুণ-তরুণীরা কক্সবাজার সমিতির এই উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিতর্কের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সৌরদীপ পাল বলেন, কক্সবাজার এখনো শিশু-মৃত্যুহার ও মা-মৃত্যুহারের সূচকে পিছিয়ে আছেন। স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে কক্সবাজারের প্রণিধানযোগ্য উন্নয়নের প্রয়োজন আছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সমিতি এগিয়ে আসতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।