জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন , জালালুদ্দিন রুমি হলেন মহান মানবতাবাদী ও জগতশ্রেষ্ঠ একজন আধ্যাত্মিক কবি ও দার্শনিক। তাঁকে বলা হয় “দ্যা ম্যাসেঞ্জার অফ লাভ এন্ড উইজডম’ অর্থাৎ প্রেম ও প্রজ্ঞার বার্তাবাহক। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতকে চরম অস্থির ও অশান্ত সমাজে মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও দায়বদ্ধতা, মমত্ববোধ আর ভালোবাসার অনুপম সৌধের উপর প্রেম-এর জয়গান গেয়ে যিনি শান্তিপিপাসু মানুষের জন্য এক ব্যতিক্রমী দর্শন প্রবর্তন করেন, তিনিই হলেন জালালুদ্দিন রুমি।

আজ ৩ সেপ্টেম্বর (২০২২) শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলার রুমি খ্যাত সৈয়দ আহমদুল হকের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আল্লামা রুমি সোসাইটির সহযোগিতায়
তিন দিন ব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রুমি সোসাইটির সহ-সভাপতি সৈয়দ রেজাউল করিম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অমিত দে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড.কে এম সাইফুল ইসলাম খান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বাহাউদ্দিন প্রমুখ।।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমি জালালুদ্দিন রুমি ও বাংলার রুমির স্মরণে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং আল্লামা রুমি সোসাইটি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।

বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির মডেল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছেন।

বর্তমান সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় হলো বাংলাদেশকে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ এক আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলা। সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতাকে নির্বাসনে পাঠানো এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা। ‘ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা’ প্রবন্ধ রচনা করে বাংলার রুমি আজ থেকে চার দশক পূর্বেই এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন, পথ-নির্দেশনা দিয়েছেন।শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের অন্তরায় ও অনুষঙ্গসমূহ বাতলে দিয়েছেন। তারই আলোকে বলতে পারি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের যে অনুপম সৌধ নির্মাণ করে গেছেন, বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক তাঁর দীর্ঘ জীবনের নিরলস গবেষণা, সাহিত্য-রচনা ও নির্মোহ সাধনার আলোকে সেই সৌধটির একাডেমিক ডিসকোর্স প্রণয়নে পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। তাই বলি, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে যদি জালালুদ্দিন রুমির মানবতাবাদী প্রেম-দর্শন ও বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক নিরাপদ ও শান্তিময় জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে হয় ,তাহলে বাংলার রুমির সেই একাডেমিক ডিসকোর্সকে অবলম্বন ও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাঁর রচিত প্রেমবাদ ও সুফিসাহিত্যের অমূল্য সম্পদকে সংগ্রহ করে আমাদের জাতীয় জীবনে দেশমাতৃকার বৃহত্তর স্বার্থ সুরক্ষায় কাজে লাগাতে হবে।