সোয়েব সাঈদ, রামু:
কক্সবাজারের রামুতে বিয়ের প্রলোভনে ২ সন্তানের জনক কর্তৃক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ বাড়ি থেকে কিশোরীকে কাজী অফিসে নেয়ার কথা বলে নেয়া হয় আবাসিক হোটেলে। সেখানে ধর্ষণের পর কৌশলে সটকে পড়েন ধর্ষণকারি যুবক রহমত উল্লাহ। এরআগে নিজেকে অবিবাহিত, সঠিক নাম ও অন্যান্য পরিচয় গোপন রেখে মুঠোফোনে কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন এ যুবক।
এ ঘটনায় সোমবার, ২৯ আগস্ট রাতে রামু থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা। ধর্ষণে অভিযুক্ত রহমত উল্লাহ (৩২) রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আশকরখিল গ্রামের মৃত বদি আলমের ছেলে।
ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানান- ২মাস ধরে মুঠোফোনে নিজেকে অবিবাহিত ও আরিফ নাম পরিচয় দিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে মাছ ব্যবসায়ি রহমত উল্লাহ। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাকে বিয়ে করা সহ নানা প্রলোভন দেখান। গত ১৮ আগস্ট বিকালে ওই কিশোরীর বাবা-মা পাশর্^বর্তী ধানক্ষেতে কাজ করতে যান। এসময় রহমত উল্লাহ কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করার কথা বলে কিশোরিটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। ওইদিন বিকাল ৪ টার দিকে কিশোরিটিকে নেয়া হয় রামু চৌমুহনী স্টেশনস্থ একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে। সেখানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রহমত উল্লাহ। পরদিন ১৯ আগস্ট কিশোরীটি বলা হয় বিয়ের জন্য জন্মনিবন্ধন ও লাখ টাকা লাগবে। পরে কিশোরীকে বাড়ি চলে যেতে বলে কৌশলে সটকে পড়ে রহমত উল্লাহ। এতে হতভম্ব ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে ওই কিশোরী।
পরে কিশোরীর স্বজনরা কয়েকদিন বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে রহমত উল্লাহর পরিচয় শনাক্ত করে। স্বজনরা জানতে পারেন- রহমত উল্লাহ বিবাহিত এবং ২ সন্তানের জনক। কয়েকদিন পূর্বে রামুর জোয়ারিয়ানালা মাছ বাজারে হাতে-নাতে তাকে ধরে ফেলে। কিন্তু এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধি বিষয়টি সুরাহা করার আশ^াস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন। পরে কিশোরীর পরিবার আর রহমত উল্লাহর হদিস পাচ্ছে না। এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে রহমত উল্লাহকে আসামী করে থানায় এজাহার দিয়েছেন কিশোরীর মা।
রামু থানার ওসি (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী জানান- এ ঘটনায় লিখিত এজাহার পেয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ধর্ষণে অভিযুক্ত রহমত উল্লাহ জানান- ধর্ষণের বিষয়টি সাজানো। তাকে ফাঁসাতে এ ধরনের প্রচারনা চালানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান- মেয়েটিই তাকে ফোনে বিরক্ত করতো এবং সে নিজেই চলে এসেছিলো।