আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুবাইয়ে পালাচ্ছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোতবায়া রাজাপাকসে। নৌ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শ্রীলংকার প্রধান বিমানবন্দরের সঙ্গে লাগোয়া কাতুনায়েকে নামে একটি বিমান ঘাঁটিতে হেলিকপ্টারে এসেছেন রাজাপাকসে।

এদিকে, সোমবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছে যে বুধবার (১৩ জুলাই) পদত্যাগ করবেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। তবে রাজাপাকসের কাছ থেকে সরাসরি এ বিষয়ে কোনো কথা আসেনি।

লংকান গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপক নিরাপত্তায় ঘেরা বিমান ঘাঁটিতে নিজের কাছের লোকজনদের নিয়ে দুটি হেলিকপ্টারে করে আসেন গোতবায়া রাজাপাকসে। দেশ থেকে পালিয়ে দুবাই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গোতবায়া রাজাপাকসে। সেখানে আশ্রয় নেবেন লংকান প্রেসিডেন্ট।

এর আগে গত শনিবার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কলম্বোতে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। এক পর্যায়ে তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়েন। এর আগে নৌ বাহিনীর সহায়তায় গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে একটি নৌ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন গোতবায়া রাজাপাকসে।

এদিন শ্রীলংকার জাতীয় সংসদের স্পিকার জানান, পদত্যাগ করতে সম্মত হয়েছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোতবায়া রাজাপাকসে। এতে শনিবারের পর থেকে আর জনসম্মুখে আসেননি তিনি।

সম্প্রতি জনরোষে পড়ে পদত্যাগ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে। তারপরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। তখন থেকেই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চাইছেন আন্দোলনকারীরা।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গোলযোগের মধ্যে পড়ে নাভিশ্বাস উঠে গেছে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের। খাদ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম, লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের সংকট, পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে দেশটিতে। দৈনন্দিন জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। ফলে আন্দোলন-বিক্ষোভ করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না তারা।