নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
‘ইসলামপুরে মা-বাবার আইডি ছাড়া ভোটার ফরমে স্বাক্ষরের কোন সুযোগ নেই। মাত্র কম্পিউটারেই সম্ভব।’

এমন দাবি করে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাসটি লিখেছেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

তার এই স্ট্যাটাসের পক্ষে প্রচুর কমেন্টস, রিয়েক্ট পড়েছে। শেয়ার করেছে অনেকেই। ধন্যবাদ জানিয়েছে শুভার্থীরা।

গত ৩১ মে কক্সবাজার নির্বাচন অফিসে ভোটার হওয়ার জন্য ছবি তুলতে গিয়ে মোঃ আবদুল মানিক নামের এক ব্যক্তির আবেদন ফাইল ‘রোহিঙ্গা’ সন্দেহে জব্দ করেন সদর নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা।

এরপর ‘জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ভোটার হচ্ছে রোহিঙ্গারা, আবেদন ফরম জব্দ’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তার জবাবে স্ট্যাটাসটি লিখেছেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

তবে ইসলামপুরের বাসিন্দারা জানিয়েছে, ভোটার প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই না করে স্বাক্ষর দেন না চেয়ারম্যান। দায়িত্বশীলতার বিষয়ে তিনি যথেষ্ট সচেতন।

তবু কেন এমন ঘটনা ঘটলো, ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়দের। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সবার।

অভিযুক্ত মোঃ আবদুল মানিক ইসলামপুর ৬ নং ওয়ার্ডের ভিলেজার পাড়ার বাসিন্দা মরহুম শামসুল আলমের ছেলে। পেশায় সে সিএনজি চালক। তারা পাঁচ ভাই এক বোন। প্রায় ১০ বছর আগে বন্যহাতির আক্রমণে মারা যায় তার পিতা।
মোঃ আবদুল মানিকের কনিষ্ঠ ভাইদের একজনের নাম নুর হোসেন।
ভোটার আবেদন ফরমে নিজের নাম গোপন করে নূর হোসেন ব্যবহার করেছেন মানিক।

তার মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সর্বমহলের।

এদিকে, যেখানে প্রকৃত বাংলাদেশী জনগণ ভোটার হতে হিমশিম খাচ্ছে; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ভোগান্তি পোহায় দিনের পর দিন, সেখানে রোহিঙ্গারা কিভাবে ভোটার হচ্ছে? তাতে বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক এবং সজাগ রয়েছে। কঠোর বার্তা রয়েছে সরকারের। এরপরও কৌশলে ভোটার হয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রশ্রয় ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।