জালাল আহমদ, ঢাবি প্রতিনিধি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক‌ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ,সিনেট সদস্য এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান বলেছেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি বিগত কয়েক দিনে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তা বন্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের অন্যতম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা দায়ের করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।যে সকল শিক্ষার্থী‌ আহত হয়েছে , তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে মাননীয় উপাচার্য ক্যাম্পাসে ক্রীয়াশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতি সংবেদনশীল থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চিত করতে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ বিশেষভাবে প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রক্টরের প্রতি আহ্বান থাকবে‌ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে বিশেষ কোন ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্রের হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না।

আজ ১ জুন বুধবার দুপুর বেলা বারোটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দাবিতে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল কর্তৃক আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই দাবি জানিয়েছেন।
সকাল এগারোটার দিকে মানববন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে এক ঘন্টা পর দুপুর বারোটায় মানববন্ধন শুরু হয়। মানববন্ধন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হলে বক্তারা দ্রুত মানববন্ধন শেষ করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের শিক্ষক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে সাদা দলের শিক্ষক নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সিনেট সদস্য
অধ্যাপক ডক্টর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রীয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রক্টর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মতো আচরণ করছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে
আমরা নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাণ রসায়ন এবং অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মামুন আহমেদ বলেছেন,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্ত্রাসীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।আর কোন ছাত্র সংগঠনের প্রতি পক্ষপাত কিংবা অনুরাগ প্রদর্শন করবেন না। বাংলাদেশে যে কোন ঘটনা ঘটলে‌ সেখানে বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা হয়‌।বাংলাদেশের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলার শিকার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে ‌‌।
যাদের ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ,তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন
মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব প্রশাসনের।

অধ্যাপক আল আমিন বলেছেন, এক দলীয় শাসন দেশে যেমন চলছে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন
হলে গেস্ট রুম সংস্কৃতি চলতে দেওয়া যায় না।

অধ্যাপক এমরান কাইয়ুম বলেছেন,কয়েক দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যে নৈরাজ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই।শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারাদেশে শিক্ষাঙ্গনে
সন্ত্রাসীদের দমন না করলে পরিণতি ভালো হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন,এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।