আবুল কালাম, চট্টগ্রাম:
দি চিটাগং অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি র ২৯ তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা উপলক্ষে এক সংবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার(২৯ মে) সকাল ১১ টার দিকে দি চিটাগং অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি র উদ্যেগে নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলন প্রথমে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত এর মধ্য শুরু হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সাম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, মেলা কমিটির কো-চেয়ারম্যান বৃন্দ সদস্য বৃন্দ এবং পরিচালক মন্ডলী সহ সকল প্রিন্ট মিডিয়া ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও সিঅাইটিএফ কমিটির উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম এ সময় তিনি বলেন,দেশের অন্যতম প্রাচীন বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পায়ন আমদানি-রপ্তানি বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে কাজ করে চলছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মেলা, এসএমই মেলা,আইটি মেলা ইত্যাদি আয়োজন চেম্বারের অন্যতম অর্জন।আপনারা জানেন বিগত ২৮ বছর ধরে আমরা দেশি পণ্য প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছি।আপনারা জানেন যে বিগত দুই বছর করুণা মহামারীর কারণে সিআইটিএফ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি এবং এই বছরও নির্দিষ্ট সময়ে এ মেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি বিলম্ব সত্ত্বেও ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দর্শনার্থী ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাপক আগ্রহের কারণে ২৯ তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (সিআইটিএফ) ২০২২ আগামী ৩১ মে ২০২২ ইংরেজি বিকাল ৩ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আরম্ভ হতে যাচ্ছে এ উপলক্ষে আমরা বড় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর টিপু মুনশি এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অলংকৃত করার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন পাশাপাশি চট্টগ্রাম ১১ আসনের সদস্য চেম্বারে প্রাক্তন সভাপতি এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী, দি ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দীন এবংচট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালে মোহাম্মদ তানভীর পিপিএম এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

মাসব্যাপী আমাদের এই মেলা রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। অন্য বছরের নেয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন। একই সাথে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের পণ্যের সম্প্রসারণ বিভিন্ন সে প্যাভিলিয়ন সাজিয়ে তাদের পণ্যের সমাহার দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখবে। চট্টগ্রাম মহানগরের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মেলা পরিদর্শন করে তাদের পছন্দমতো পণ্য সংগ্রহ করবেন এবং মেলার সার্বিক আয়োজন উপভোগ করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। প্রত্যেক বছর মেলাকে আমরা কী সুখী কে সাজাতে চাই। এবারও আমরা সেই হবে আকর্ষণীয় পরিসর নিয়ে আমাদের মেলা কে আলোকিত করব।

তিনি আরো বলেন এবারের মেলায় একটি আধুনিক বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন স্থাপন করেছি এতে বাতিঘরের সহায়তায় বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা আপনাদের লেখনীতে এই প্যাভিলিয়ন সহ সামগ্রিক মেলা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ ফিচার প্রবন্ধ ইত্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে এই উদ্যোগের সফল করার জন্য চেম্বারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি।

মেলার বৈশিষ্ট্য সমূহ:

মেলার ব্যাপ্তি প্রায় ৪ লক্ষ বর্গফুট, এতে ১৭টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন,৩৩টি প্রিমিয়ার ষ্টল,৯৯টি গোল্ড স্টল,৪৮টি মেগা স্টল,১৪টি ফুড স্টল,২টি আলাদা জোন নিয়ে ৩৭০ টি স্টল৩১০ এর অধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

সর্বসাধারণ যাতে ব্যাপকহারে মেলা পরিদর্শন করতে পারে সেই লক্ষ্য দর্শনার্থীর টিকেটের মূল্য গতবারের মত ১৫ টাকা রাখা হয়েছে।

এবারের মেলায় নিজস্ব পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ যেমন ভারত থাইল্যান্ড ও ইরান বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে।

অনাখাঙ্কিত দুর্ঘটনা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম মেলা চলাকালীন সময়ে সর্বদা মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থান করবে।

মেলা অংশগ্রহণকারী ও আগত দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য মেলা প্রাঙ্গণে চৌকস পুলিশ বাহিনী ৩ শিফটে বিভক্ত হয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি রেপ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য গণ বিশেষভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে সুদক্ষ প্রাইভেট সিকিউরিটি সদস্যগণ ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সার্বক্ষণিক ভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মাসব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলবে।

মেলা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার বৃন্দ মেলা পরিদর্শন করবেন। এতে করে সেসব দেশে আমাদের পুনর বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীগণ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দ এই মেলা পরিদর্শন করবেন যা দেশীয় শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ সহায়ক হবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সন্ধানী রেড (রাইট একশন ফর ডিসএবিলিটি) চট্টগ্রাম বধির ক্রীড়া ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা এবং। ইলেকট্রিশিয়ান কল্যাণ সমিতি কে বিনামূল্য একটি করে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিকভাবে একটি ইনফর্মেশন অবউৎ বা তথ্য কেন্দ্র চালু থাকবে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নারী-পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ পরিমার্জিত ও পরিবর্তিত আলাদা আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্য থেকে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্টল প্যাভিলিয়ন ও দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী নির্বাচন করে বিশেষ পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হবে।

সম্পূর্ণ মেলাপ্রাঙ্গণ ফ্রি ওয়াইফাই এর আওতায় থাকবে যেখানে দর্শনার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

মেলা শুধু বাণিজ্য রাজস্থান নয় এটা নগর জীবনে একে অন্যের সাথে মেলবন্ধনের একটি সুযোগ তাই বসার সুবিধা সমূহ ফোয়ারা সম্বৃদ্ধ ১২ ৩২০ বর্গফুট জুড়ে একটি ওপেন প্লাজা রাখা হয়েছে।

নতুন সংযোজন হিসেবে শিশুদের বিনোদনের জন্য ৩.০০০ বর্গফুট বিনোদন কেন্দ্র রাখা হয়েছে।

এবারের মেলায় নগরীর বিভিন্ন স্কুলের প্লে গ্রুপ থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্য টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।