ইমাম খাইর, সিবিএন:
মাদক এক ভয়ঙ্কর নেশা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুই ধরণের ব্যবসায়ী মাদকের সাথে জড়িত। দেশীয় ব্যবসায়ী ও মদদদাতা না থাকলে অনেক আগেই আমরা মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারতাম। কারবারীদের চিহ্নিত করে ধরিয়ে দিন। মাদক বিরোধী চ্যালেঞ্জে আমাদের জিততে হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার (২৭ মে) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কক্সবাজার রিজিয়ন কর্তৃক মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। সে জন্য বিজিবিকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। কোস্টগার্ডের দক্ষতা, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু বিজিবি কিংবা কোস্টগার্ড নয়, আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। তাহলে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে বলেছেন আমরা সেভাবেই চলছি। সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সর্বস্তরের মানুষ সহযোগিতা করলে আমরা এই চ্যালেঞ্জে শতভাগ সফল হবো বলে আশা করছি।
কক্সবাজারের বিজিবির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেছেন, তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে বলে আজকে বিশাল অংকের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। যেভাবে মাদকদ্রব্য আসছে তার কিছুটা হলেও আমরা প্রতিরোধ করতে পারছি বলে এই সফলতা।
তার আগে বিজিবির মাঠে ৩৯৫ কোটি ৭৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭৫ টাকা মূল্যমানের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে এসব মাদক জব্দ করে বিজিবি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিবি’র অভিযানিক কার্যক্রম নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এরপর বিজিবি’র কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজম-উস-সাকিব স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আখতার হোসেন এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
বিজিবি মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও সার্বজনীন প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। সীমান্তে মাদক পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেন। বিজিবিকে বিশ্বমানের একটি আধুনিক ত্রিমাত্রিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং একইসাথে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজিবি’র পাশে থেকে সাহস জোগানোর জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং কক্সবাজার রিজিয়নের বিজিবি সদস্যদের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে দক্ষতার সাথে কাজ করায় তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এরপর তিনি নিজহাতে ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ইয়াবা ধ্বংসকরণের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে কক্সবাজার রিজিয়নের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নসমূহ কর্তৃক বিগত ০১ বছরের মালিকবিহীন আটককৃত ৯০,৮০,৪৭৭ পিস ইয়াবা, ২৩.৭৫২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস; ৬,৭৬৭ ক্যান বিয়ার; ১,৩৩৯ বোতল মদ; ১৫৪ বোতল ফেন্সিডিল; ২০৬ লিটার বাংলা মদ; ১৭ কেজি গাঁজা; ৪৮,০১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ট্যাবলেট; ১০,৯৮৪ প্যাকেট সিগারেট এবং ০৭ বোতল এ্যামোনিয়াম সালফার ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজিবির মতে, ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যদমূহের আনুমানিক সিজারমূল্য ৩৯৫,৭৬,৪৭,৫৭৫/- (তিনশত পঁচানব্বই কোটি ছিয়াত্তর লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার পাঁচশত পঁচাত্তর) টাকা।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আটককৃত ১৯৭৯ জন আসামিসহ ১,২৪,০০,৪৩০ পিস ইয়াবা; ২৭.৪৪৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস; ১,৩০৫ ক্যান বিভিন্ন প্রকার বিয়ার; ৯৮ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ; ১৩৭ বোতল ফেন্সিডিল; ৫৮৬.৮০০ লিটার বাংলা মদ; ২২.৯৯৫ কেজি গাঁজা; এবং ৩.১৫০ কেজি আফিম মামলার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরকৃত মাদকদ্রব্যসমূহের আনুমানিক সিজারমূল্য প্রায় ৫১০,৯০,১৩,৫৭২ (পাঁচশত দশ কোটি নব্বই লক্ষ তের হাজার পাঁচশত বাহাত্তর) টাকা।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. ফখরুল আহসান, কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার রেজোয়ান হায়াত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।