মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

নুর নবী (২০).নামক এক যুবকের হাতের কব্জি কেটে হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলায় কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী ৫ জন আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছেন। বুধবার ২৫ মে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো : ২০০৬ সালের ১৭ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে টেকনাফের বাহারছরার নয়াপাড়ায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ৮/৯ জন লোক একই এলাকার মৃত বাঁচা মিয়ার পুত্র নুরুল আলম এর বাড়িতে দা, চুরি, কিরিচ, রড, লাঠিসোটা নিয়ে অনুপ্রবেশ করে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে আয়াত উল্লাত প্রকাশ আরীফ ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নুরুল আলমের পুত্র নুর নবীর বাম হাতের কব্জি কেটে হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। অন্যান্য অনুপ্রবেশকারীরা সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে থাকা নুরুল আলম, তার স্ত্রী হালিমা বেগম, পুত্র মোঃ মোস্তফা, কন্যা হাদিয়া আক্তার ও হাদিয়া আক্তারের স্বামী মোঃ হেলালকে কুপিয়ে, পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে।

এঘটনায় নুরুল আলম এর কন্যা ও মোঃ হেলালের স্ত্রী হাদিয়া আক্তার বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার টেকনাফ থানা মামলা নম্বর : ৩২/২০১৬ ইংরেজি। জিআর মামলা নম্বর : ২৫২/২০১৬ ইংরেজি (টেকনাফ)। ফৌজদারি দন্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৮০/৪২৭/৫০৬ ধারা।

মামলাটি ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলী আদালত থেকে বিচারের জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলী হয়ে আসে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি বিচারের জন্য চার্জ গঠন করা হয়।

মামলাটিতে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও তাদেরকে আসামী পক্ষে জেরা করা হয়। মামলায় আলামত প্রদর্শন, ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন পর্যালোচনা, আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান, উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সহ সব বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিজ্ঞ বিচারক আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী মামলার ৫ জন এজাহারভুক্ত আসামীকে ঘটনার ৬ বছর পর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন।

রায়ে আসামীদের ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। তারমধ্যে টেকনাফের বাহারছরার নয়াপাড়ার আজিজুর রহমান প্রকাশ হাজিরান এর পুত্র মোঃ আয়াত উল্লাহ প্রকাশ আরীফ (২৫) কে সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, হাজিরানের পুত্র ফারুক (১৯) কে সর্বোচ্চ সাজা ৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, হাজিরানের আরেক পুত্র আমান উল্লাহ (২২) কে সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, হাজিরানের কন্যা হাসিনা (৩০) কে ৪ মাস সশ্রম কারাদন্ড এবং হাজিরানের স্ত্রী জাহানার (৫৫) কে ৩ মাস সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। বিচারক রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।