স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মিলেনি হাবিবুর রহমানের

আব্দুর রশিদ, বাইশারী:

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দূর্গম পাহাড়ী এলাকার ৮নং ওয়ার্ড নারিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৌলভী হাবিবুর রহমান। স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এ নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদনে জানা যায়, মৌলভী হাবিবুর রহমান, পিতা- মৃত আব্দুল হাকিম সিকদার, গ্রাম- বাইশারী, ওয়ার্ড নং- ৮, ডাকঘর- বাইশারী, উপজেলা- নাইক্ষ্যংছড়ি, জেলা- বান্দরবান। তিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১নং সেক্টরে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক এবং একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। সেই সময় জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার দরুণ দেশের বাহিরে থাকার কারণে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতীয় গেজেট ও মুক্তিবার্তায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পায় নাই বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। তাই তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ও সাময়িক সনদ পাওয়ার জন্য সরকারের নিকটও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরজমিনে এই প্রতিবেদক মৌলভী হাবিবুর রহমান এর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি স্বক্রিয়ভাবে ১নং সেক্টর হয়ে ক্যাপ্টেন আব্দুস ছোবাহান এর নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ঐ সময় তিনি কক্সবাজার জেলার ঈদগড় ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন, নুরুল ইসলাম বাঙালী এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের মোঃ হাসেম সহ অনেকের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তারা অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি পেলেও মৌলভী হাবিব এখনো মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি আরো জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে কক্সবাজার জেলার রামু, মরিচ্যা, বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও সর্বশেষ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আলীক্ষ্যং লাব্রে মুরুং পাড়ায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ঐ যুদ্ধে লাব্রে মুরুং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং মৌলভী হাবিবুর রহমান পিঠের উপরে ঘাঁড়ের কিনারায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে লাব্রে মুরুং সহ অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও তার সহযোগী হিসেবে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নেয়ার পরেও মৌলভী হাবিবুর রহমান এখনো পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় মনোকষ্ট নিয়ে স্বীকৃতির আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বর্তমানে তার বয়স ৮৫ ছুঁই ছুঁই। তার জীবন জীবিকা নির্বাহে ভীষণ কষ্টে দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে হলেও এই প্রৌঢ় বয়স্কা সরকারের নিকট হইতে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.