ইবাদত আর বই পড়ে সময় কাটে সালাউদ্দিনের

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময়ের আলোচিত নাম সালাউদ্দিন আহমেদ এখন আর আলোচনায় নেই। ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পরে রহস্যজনকভাবে তার ‘খোঁজ’ পাওয়া যায় ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে। অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় দীর্ঘদিন সেখানেই কাটছে এই বিএনপি নেতার দিনকাল।

কিন্তু কেমন আছেন, কীভাবে সময় কাটছে তার- সম্প্রতি এসব বিষয় জানিয়েছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তিনি জানান, সালাউদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব। তার সময় কাটে ইবাদত করে আর বই পড়ে।”

বিএনপির অবরোধ আন্দোলন চলাকালে ‘অজ্ঞাতস্থান’ থেকে দলের পক্ষে বিবৃতি দিতেন দলের এই যুগ্মমহাসচিব। গত ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাত থেকে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী ‘নিখোঁজ’ হন। এর কয়েক মাস পরে শিলংয়ের গলফ লিংক রোডে ‘রহস্যজনকভাবে খোঁজ’ মেলে বিএনপির এই নেতার। তখনই তাকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্টে’ মামলার বিচার চলছে। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে তিনি শিলংয়ে পৌঁছান সেই রহস্যের জট এখনও খোলেনি। সালাউদ্দিনও মুখ খোলেননি এ বিষয়ে।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে সালাউদ্দিন আহমেদকে যুগ্মমহাসচিব পদ থেকে পদন্নতি দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।

সালাউদ্দিনের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, গত মাসে সালাউদ্দিন আহমেদের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। ছিলেন বেশ কিছু দিন। মাঝে মাঝেই স্বামীর কাছে গিয়ে কিছুদিন থেকে আসেন তিনি।

হাসিনা আহমেদ বলেন, “সালাউদ্দিনের শরীর অসুস্থ। মামলার হাজিরা, ইবাদত করা আর দেশে ফেরার অপেক্ষায় শিলংয়ে নিঃসঙ্গ দিন কাটছে তার। দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। বিচার শেষেই তিনি দেশে ফিরতে চান। কিন্তু সেটা নির্ভর করছে কোর্টের রায়ের ওপর।”

কীভাবে দিন কাটে সালাউদ্দিন আহমেদের জানতে চাইলে স্ত্রী জানান, নামাজ পড়ে, কোরান শরিফ পড়ে ইবাদত করে সময় কাটে তার। বাকি সময়টুকু বই পড়েন তিনি।

সালাউদ্দিন আহমেদের শারিরীক অবস্থা সম্পর্কে হাসিনা আহমেদ জানান, তিনি সুস্থ নন। তার নানা শারিরীক সমস্যা রয়েছে। গত মাসের ১০ তারিখে দিল্লিতে কিডনি ও ইউরিন সংক্রান্ত একটি মেজর অপারেশন হয়েছে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি, তবে চলাফেরা করতে পারেন। ডাক্তার বলেছেন, সুস্থ হতে আরো সময় লাগবে।

তিনি জানান, অপারেশনের জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। এরপর আবার শিলংয়ে ফিরে এসেছেন। এখন সেখানেই অবস্থান করছেন। আগের ভাড়া করা বাসায়তেই আছেন। তার ভাতিজা সাফওয়ান ও সবুজ তার সঙ্গে থাকেন।

অপারেশনের সময় হাসিনা আহমেদ শিলংয়ে ছিলেন জানিয়ে বলেন, “তখন সঙ্গেই ছিলাম। কয়েক দিন আগে এসেছি। এখন বাচ্চাদের পরীক্ষা শুরু হবে। সম্ভব হলে ঈদের আগে যাবো।”

সালাউদ্দিন আহমেদের চার সন্তান। বড় ছেলে কানাডায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। আর মেয়ে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করে। ছোট দুইজন মায়ের সঙ্গেই থাকে।

হাসিনা জানান, ছেলেমেয়েরা তার বাবাকে এবং বাবা তাদেরকে খুব মিস করে।

মামলার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন পত্নী বলেন, “তার বিরুদ্ধে মামলা একটাই, বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের মামলা। সেটা চলছে, সেটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিমাসে মামলার হাজিরা দেন সালাউদ্দিন। ওখানকার আইনজীবীরা এই মামলা পরিচালনা করছেন। এখন রায়ের অপেক্ষায় আছি। আশা করি রায় আমাদের পক্ষেই যাবে।”

‘বিএনপির লোকজন খোঁজখবর নেয়’ বলে জানান হাসিনা। তবে সালাউদ্দিনের সঙ্গেই বেশি যোগাযোগ হয় তাদের। এখন পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন পড়েনি তার। জমিজমা থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়েই সংসার চলে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে বলেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে আসেননি। তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল, দু’মাস তাদের কাস্টডিতে ছিলেন এবং যারা ‘অপহরণ’ করেছে তারাই তাকে হাত-পা এবং চোখ বেঁধে ভারতে রেখে গেছে। কিন্তু কারা তাকে অপহরণ করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি বিএনপির এই নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.